‘মুজিব আমার পিতা’ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের প্রথম গান ‘তোমার সমাধি’

‘তোমার সমাধি ফুলে ফুলে ঢাকা, কে বলে আজ তুমি নাই; তুমি আছ মন বলে তাই’- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিত প্রথম ফিচার-লেংথ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘মুজিব আমার পিতা’-র প্রথম গান ‘তোমার সমাধি’ প্রকাশ করা হয়েছে ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ অবলম্বনে নির্মিত এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের প্রথম গানের ভিডিও দারুণ সারা ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আইসিটি ডিভিশনের অর্থায়নে নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ টু ডি অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘প্রোলেন্সার’-এ চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ চলছে যার পরিচালনায় রয়েছেন সোহেল মোহাম্মদ রানা।

চলচ্চিত্রটির জন্য গানটি নতুন করে তৈরি করেছে ‘প্রোলেন্সার’ স্টুডিও যেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন শিবু কুমার শীল। তার সঙ্গে সংগীতায়োজন ও বাদ্যযন্ত্রে আরো ছিলেন তানবীর দাউদ রনি, এমজি কিবরিয়া, রাশেদ শরীফ শোয়েব, সৌরভ সরকার ও আমজাদ হোসেন। গানটি বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় প্রোলেন্সার স্টুডিওর ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে প্রথম প্রকাশ করা হয়।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত প্রথম ফিচার-লেংথ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের প্রথম গান প্রকাশ উপলক্ষে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ভিত্তি রচনা করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাটি ওয়ারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশের আধুনিক রূপ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুপরামর্শ এবং তত্ত্বাবধানে আমরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ মুজিববর্ষে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন এবং উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। মুজিব বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে এরকমই একটি নতুন উদ্যোগ অ্যানিমেশন মুভি তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, প্রথম অ্যানিমেশন ফিল্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা ‘মুজিব আমার পিতা’ অবলম্বনে তৈরির কাজটি আমরা প্রায় শেষ পর্যায়ে আনতে পেরেছি এবং মুজিব আমার পিতা অ্যানিমেশন ফিল্মের একটি অসাধারণ গান যেটি বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় গান ছিল এবং শ্যামল মিত্রের সেই গানটি আমরা এখানে আজকে উন্মুক্ত করেছি এবং খুব অল্পসময়ের মধ্যেই আমরা দর্শক শ্রোতার কাছে মুজিব আমার পিতা অ্যানিমেশন ফিল্মটি উপহার দিতে পারবো আশা করছি। যেখানে বঙ্গবন্ধুর শৈশব কৈশোর এবং তার যে রাজনৈতিক এবং কর্মময় জীবন সেটি অ্যানিমেশন এর মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে পারবো। বাংলাদেশের অ্যানিমেশন এক্সপার্ট যারা আছে অ্যানিমেটর যারা আছেন তারা তাদের কর্ম দক্ষতা এবং মেধার পরিচয় দিয়েছে। তার জন্য ‘প্রোল্যান্সার’র রানা, সিআরআই-এর শিবু কুমার শীল, তন্ময় আহমেদ এবং আমাদের তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের গেম ডেভেলপমেন্ট এন্ড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন প্রকল্পের টিমের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

চলচ্চিত্রের নির্মাণে শুরু থেকে গবেষণায় বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে জানান পরিচালক সোহেল মোহাম্মদ রানা। তিনি বলেন, ‘ছবিতে কোনো ভুল থাকুক বা ঐতিহাসিক অসত্য ঘটনা থাকুক তা আমরা চাইনি। এমনকি গান নির্বাচনের জন্যও আমরা আলাদা করে গবেষণা করেছি। তারই ফসল এই গানটি। আমরা চেয়েছি ছবিতে বঙ্গবন্ধুর পছন্দের গান ব্যবহার করতে। আর এটি যে তার পছন্দের ছিল তা তিনি নিজে গানটির শিল্পী শ্যামল মিত্রকে বলেছিলেন। তারই অনুরোধে গানটি সম্পূর্ণ করা হয়েছিল। এমন ঐতিহাসিক একটি গান আমার চলচ্চিত্রে ব্যবহার করতে পেরে খুবই আপ্লুত। সেই সঙ্গে আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ভাইকে। কারণ তারই আগ্রহে আমি দেশের প্রথম ফিচার-লেংথ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র বানাতে পারছি। সেটাও হচ্ছে ব্যয়বহুল ও শিল্পসম্মত টুডি অ্যানিমেশনে।’

গানটির কণ্ঠশিল্পী শিবু কুমার শীল বলেন, ‘দেশের প্রথম ফিচার-লেংথ অ্যানিমেশন ফিল্ম ‘মুজিব আমার পিতা’র জন্য যখন আমাকে শ্যামল মিত্রের গাওয়া গানটি নতুন করে করতে বলা হলো সেটা সত্যি আমার জন্য খুব দারুণ একটা প্রস্তাব ছিল। কারণ এ ধারার কাজ আমার এটাই প্রথম। কিবরিয়া, রনি, শোয়েব, সৌরভ মানে আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে দাঁড় করালাম গানটা। একটা চাপ ছিল কী দাঁড়ায় তা নিয়ে। কারণ এই গান আমাদের শ্রুতিতে একদম গেঁথে আছে। ভালো না হলে দর্শক নেবে না। ফলে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েই কাজটা করেছি। আর এই চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে যদি বলি, এটি রিলিজ হলে আমাদের দর্শকরা ভিন্ন কিছুই দেখতে পাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অন্তরাল’ চলচ্চিত্রে প্রথম ব্যবহৃত হয় ‘তোমার সমাধি’গান, যার গীতিকার ছিলেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। গানটির সুর করার পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছিলেন শ্যামল মিত্র। সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন সুধীন দাশগুপ্ত। তবে চলচ্চিত্রটির জন্য গানের কেবল চারটি চরণ লেখা হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে সত্যজিৎ রায় ও শ্যামল মিত্র বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তখন বঙ্গবন্ধু শ্যামল মিত্রকে গানটির পূর্ণ রূপ দিতে অনুরোধ করেন। গৌরীপ্রসন্ন বঙ্গবন্ধুর কথা মাথায় রেখে বাকি গান শেষ করেন। কিন্তু রেকর্ড সম্পন্ন হওয়ার আগেই ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন।

আগামী বছরের শুরুতেই দর্শকের জন্য উন্মুক্ত হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিত প্রথম ফিচার-লেংথ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘মুজিব আমার পিতা’।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »