আইসিইউ ফাঁকা নেই পাঁচ হাসপাতালে

রাজধানীর ১০টি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের ৫টিতেই আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র)-এর কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। দুটিতে জটিল রোগীদের জন্য আইসিইউর কোনো শয্যাই নেই

ফলে সংশ্লিষ্ট রোগীদের চিকিৎসায় জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে দেশে করোনাভাইরাসের বর্তমান সংক্রমণের হার স্থিতিশীল থাকলেও সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে সার্স কোভ-২ ভাইরাসের নতুন একটি স্ট্রেইন চিহ্নিত হয়েছে। এর সংক্রমণ হার কিছুটা বেশি। এটি যেন দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে রাজধানীতে আইসিইউ’র চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। কারণ আগে যেমন করোনা পজিটিভ হলেই রোগীরা হাসপাতালে ছুটে আসত, এখন তেমন নেই। এখন যাদের শরীরে জটিলতা দেখা দেয়, তারাই হাসপাতালে আসেন। এক্ষেত্রে এসব রোগীর অনেকেরই আইসিইউর প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে কোনো কোনো হাসপাতালে আইসিইউর ঘাটতি দেখা দেয়।

এ প্রসঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান আইসিইউর সংকট একটি স্বাভাবিক বিষয়।

কারণ কোভিডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের যে পরিমাণ আইসিইউ প্রয়োজন, সেটি নেই। তাছাড়া এখন কোভিড রোগীদের পাশাপাশি শীতজনিত রোগীদেরও আইসিইউর প্রয়োজন পড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, রাজধানীর কোভিড ডেডিকেটেড ১০টি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ১৬, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১০, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১৫ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬টি আইসিইউ শয্যা। বর্তমানে এগুলোর একটিরও আইসিইউ শয্যা ফাঁকা নেই।

অন্যদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল কোভিড ডেডিকেটেড হলেও এ দুই প্রতিষ্ঠানে কোভিড রোগীদের জন্য কোনো আইসিইউ নেই। তবে শেখ রসেল গ্যাসস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ১৬টি আইসিইউ শয্যার ৬টি, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ৬টি আইসিইউ শয্যার ২টি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ইউনিট-২) ২৪টি আইসিইউ শয্যার ৫টিই খালি রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রামে সরকারি পর্যায়ের চারটি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২৫টি। এর মধ্যে ১৫টি ফাঁকা। এছাড়া এ দুই মহানগরীর বাইরে সারা দেশের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২৪৭টি, যার মধ্যে ফাঁকা আছে ১৫৯টি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, রাজধানীতে সরকারি পর্যায়ে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল ১০টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা ১১৩টি। এগুলোর মধ্যে এখনও ১৩টি শয্যা ফাঁকা। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে ৯টি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা ২০৭টি, যার মধ্যে ৭৯টি ফাঁকা রয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন , আমাদের বর্তমান অবস্থা আগের মতোই অর্থাৎ স্থিতিশীল।

মাঝেমধ্যে কিছুটা ওঠানামা করছে। তিনি বলেন, ব্রিটেনে ভাইরাসটির যে নতুন স্ট্রেইন পাওয়া গেছে, সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে; কিন্তু খুব দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আসন্ন ক্রিসমাস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোনো বর্ডার না থাকায় সেখানে সংক্রমণটা এখন বেশি। সংক্রমণের হার ১.১ থেকে বেড়ে ১.৫-এ পৌঁছেছে। তবে আমাদের সংক্রমণের হার এখন ঊর্ধ্বমুখী নয়।

এই রোগতত্ত্ববিদ বলেন, আমাদের আগের মতোই এখনও আইসোলেশনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে আসছেন, তাদের অবশ্যই ১৪ দিন আইসোলেশনে রাখতে হবে। এছাড়া কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি নিয়মিত ভাইরাসটির জিনমসিকুয়েন্সিং করার কথা বলেন তিনি।

করোনাভাইরাসের ‘নতুন ধরন (স্ট্রেইনটি)’ এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি কর্মকাণ্ডবিষয়ক পরিচালক মাইকেল রায়ন বলেন, মহামারীর বিভিন্ন ধাপে সংক্রমণের উচ্চ হার সত্ত্বেও আমরা এটিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছি। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।

তবে এটিকে (করোনার নতুন স্ট্রেইন) তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়া যেতে পারে না। মাইকেল রায়ান বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের যা করা দরকার সেটি হচ্ছে কিছুটা সময় নিয়ে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপরতা জোরদার করা।

এর আগে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেছিলেন, নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, করোনার মূল স্ট্রেইনের চেয়ে এটি ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন।

সামগ্রিক বিষয়ে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামছুজ্জামান , দেশের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল। আইসিইউ শয্যার বিষয়টি আপেক্ষিক। সেটি দিয়ে করোনার গতিপ্রকৃতি নির্ণয় করা যাবে না। গত মাসের শেষ থেকে চলতি মাসের প্রথমদিকে সংক্রমণের হার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে বর্তমানে সেটি ওই অবস্থায় নেই। এই অণুপ্রাণবিদ বলেন, তারপরও এখন আমাদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

কারণ ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের নতুন একটি স্ট্রেইন পাওয়া গেছে। যেহেতু অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের বিমান যোগাযোগ রয়েছে, তাই ওই ভাইরাস ইতোমধ্যে আমাদের দেশে এসেছে, সেটা ধরেই কার্যক্রম চালাতে হবে। যাতে ভাইরাসের নতুন ওই স্ট্রেইন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এক্ষেত্রে বর্তমানে যাদের পিসিআর পরীক্ষা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে পজিটিভ রোগীদের প্রত্যেকেরই ভাইরাসের জিমন সিকুয়েন্সিং করতে হবে

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »