শর্ত শিথিলে বেড়েছে মনোনয়নপ্রত্যাশী

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে এবার তৃণমূলের প্রস্তাবের বাইরেও মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। অবশ্য এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সুপারিশের প্রয়োজন হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে এসে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রির শর্ত শিথিল করায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্য বেড়েছে।

৬১টি পৌরসভায় এবার মোট ৩১২টি মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে তৃণমূলের তালিকার বাইরে কেন্দ্রীয় ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ নেতাদের সুপারিশে অর্ধশতাধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। অর্থাৎ, প্রতিটি পৌরসভায় গড়ে আওয়ামী লীগের পাঁচ জনের অধিক দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের দুই জন নেতা জানান, কোনো যোগ্য প্রার্থী যেন বঞ্চিত না হয়, সেজন্যই কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র কেনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এতে প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা শুরুতে বেশি হলেও পরে এটা কমে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত মেনে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই সবাই কাজ করবেন। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে প্রথম ধাপে কিছুটা ‘কড়াকড়ি’ ছিল আওয়ামী লীগে। সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত রেজুলেশনে প্রস্তাবিত প্রার্থীর বাইরে অন্য কারও কাছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেনি দলটি। তবু প্রথম ধাপে প্রতিটি পৌরসভায় গড়ে চার জনের অধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরম কিনেছিলেন। প্রথম ধাপের ২৫টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় ফরম কিনেছিলেন ১০৬ জন

জানা গেছে, নোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বলয় ভাঙতে পৌরসভার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে দলীয় ফরম বিতরণে নতুন কৌশল নেয় আওয়ামী লীগ। তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকার বাইরে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র কেনার বিষয়ে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা শর্তসাপেক্ষে শিথিল করে দলটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিভাগের ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ কোনো কেন্দ্রীয় নেতা অথবা কেন্দ্রের যে কোনো সিনিয়র নেতার সুপারিশ নিয়ে আবেদনপত্র ক্রয়ের সুযোগ রাখা হয়। এই সুযোগে তৃণমূলের বঞ্চিত নেতারা কেন্দ্রে ভিড় জমাতে থাকেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালিকার বাইরে ফরম সংগ্রহের জন্য শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতার দ্বারস্থ হন।

 

 

 

রবিবার শেষ সময় পর্যন্ত তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকায় নাম নেই এমন অর্ধশতাধিক প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে তা জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, শুক্রবারের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করা নেতাদের বিষয় আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হবে। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রি এবং দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ। এর আগে বিদ্রোহী হয়ে জিতেছিলেন বা বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিলেন এমন নেতাদের নাম এবার আর না পাঠানোর নির্দেশনা ছিল। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে একাধিকবার দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছিলেন।

 

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »