অর্থ বরাদ্দ পেলেও নিষ্ক্রিয় অনেক সংগঠন

একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রকে (টিএসসি) আবর্তন করে যে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়েছিল, তার এখন ক্ষীয়মান দশা। সাংস্কৃতিক চর্চার বাইরে গিয়ে রাজনীতি, কোন্দল আর সংগঠন দখলে রাখার মনোভাবের কারণে তৈরি হয়েছে এই দৈন্যদশা। এর বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা, বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠানে টিএসসি বন্ধ রাখা এবং শুধু দিবসভিত্তিক অনুষ্ঠানের কারণেও অতীতের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে উত্তরাধিকার বজায় রাখতে পারছে না টিএসসি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ১৯৬১ সালে টিএসসি চালু হলেও তখনকার ছাত্রসংখ্যা ছিল অনেক কম। কিন্তু চলতি সময়ে এত স্বল্প পরিমাণ স্থানে ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা সম্ভব নয়। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে না টিএসসিতে। এ বিষয়ে টিএসসির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ আলী আকবর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। কিন্তু টিএসসির পরিসর সেই ষাটের দশকের সমান। তাই অনুষ্ঠান করতে গিয়েও আমরা শিক্ষার্থীদের জায়গা করে দিতে পারি না।’

এদিকে কার্যক্রম শিথিলের কথা অস্বীকার করছেন দায়িত্বে থাকা সংগঠনের প্রধানেরা। তারা বলেন, ‘নাগরিক ব্যস্ততার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখন টিএসসিমুখী হতে চায় না। তাই চাইলেই আমরা কার্যক্রম গতিশীল করতে পারি না। চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক জবল ই রহমত বলেন, ‘অনেক সংগঠন নতুন। এসব নতুন সংগঠন চাইলেও কাজ করতে পারে না। অনেকেই রুম পায় না। এসব কারণে আমরা দৃশ্যমান কোনো কিছু দেখছি না। ’

অর্থ পেলেও নিষ্ক্রিয় : অর্ধশতাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন টিএসসিতে থাকলেও সেখানে রুম পায় ১৪টি সংগঠন। এসব সংগঠনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বরাদ্দ হয় ৫৬ লাখ টাকা। কিন্তু বেশির ভাগ সংগঠনের তেমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই। টিএসসিতে একটি কক্ষ বরাদ্দ পাওয়া এবং তা ধরে রাখাই অনেক সংগঠনের একমাত্র উদ্দেশ্য। সাংস্কৃতিক চর্চার কথা বলে নানাভাবে টাকা আয়ের ফন্দিও আছে অনেক সংগঠনের। এমন অভিযোগও আছে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। সংস্কৃত ব্যক্তিত্বরা বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরো আন্তরিক হতে হবে। বাড়াতে হবে নজরদারিও।

এমন পরিস্থিতির বিষয়ে টিএসসির উপদেষ্টা অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে যাচ্ছে এমনটি সত্য নয়। আমাদের ছেলেমেয়েরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানের সংকট রয়েছে, আমরা অফিস দিতে পারি না। যে সময় টিএসসি হয়েছিল, এখন তার তুলনায় দশ গুণ বেশি শিক্ষার্থী। প্রত্যেকের পৃথক আঙিনা আছে, কিন্তু তাদের প্রাঙ্গণ হলো টিএসসি।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »