বরিশালকে হারিয়ে জয়ের দেখা পেলো ঢাকা

বঙ্গবন্ধু টি টোয়েন্টি কাপে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেলো বেক্সিমকো ঢাকা। রবিউল ইসলাম রবির বোলিং তোপের পর ব্যাট হাতে ইয়াসির রাব্বির তাণ্ডবে বরিশালকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা।

বরিশালের দেয়া ১০৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে ব্যর্থ হয় ঢাকা। বল হাতে নায়ক রবিউল ইসলাম রবি ব্যাট হাতে ১২ বলে ২ রান করে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরে যান। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ঢাকা কেবল ২২ রান তুলতে সমর্থ হয়। দলীয় ২৩ রানে বিদায় নেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ওপেনিং ছেড়ে চার নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে ভালোই শুরু করেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। কিন্তু তার ২০ বলে ২২ রানের সম্ভাবনাময় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান মেহেদী হাসান মিরাজ।

তারপরে ঢাকাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলি রাব্বি। ৫৫ রানের জুটি গড়ে ঢাকাকে প্রথম জয় এনে দেন এই দুই ব্যাটসম্যান। ছক্কা মেরে ঢাকার জয় নিশ্চিত করেন ইয়াসির। তার ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৪৪ রান। ইয়াসির রাব্বির ইনিংসে ছিল মোট ৩টি চার ও ২টি ছক্কা।

তার আগে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ফরচুন বরিশাল। বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল বাউন্ডারি দিয়ে ইনিংস শুরু করেন। তামিমের সঙ্গে সাইফ হাসানের ব্যাটেও ভালোই রান আসতে থাকে। ৪ ওভার পর্যন্ত ইনিংস বরিশালের পক্ষেই ছিল, ৫ম ওভারে এসে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন রবি।

পঞ্চম ওভারে টানা দুই বলে দুইটি উইকেট শিকার করেন রবি। ফিরিয়ে দেন সাইফ ও পারভেজ হোসেন ইমনকে। সেই ১ রান খরচায় দুইটি উইকেট নেন রবি। ষষ্ঠ ওভারে এসে মেডেন দেন নাঈম হাসান। সপ্তম ওভারে আবার আঘাত হানেন রবি, এবারে তার শিকারে পরিণত হন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ৭ বলে ০ রান করে সাজঘরে ফেরেন আফিফ।

২৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বরিশাল। সেই চাপ থেকে দলকে বের করতে চেষ্টা করেন তামিম ও তৌহিদ হৃদয়। তাদের ৩৭ রানের জুটিও ভাঙেন রবি। মুক্তার আলির তালুবন্দী হয়ে রবির চতুর্থ শিকারে পরিণত হন তামিম। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান করেন ৩১ বলে ৩১ রান। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও একটি ছক্কা।

ইনিংসের ১৪তম ওভারে আবারও বরিশালের কান্নার কারণ হয়ে ওঠেন রবি। নাঈমের বলে ইরফান শুক্কুরের এক দুর্দান্ত ক্যাচ লুফে নেন তিনি। পতন হয় বরিশালের পঞ্চম উইকেটের। ইরফান ফেরেন ৮ বলে ৩ রান করে।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান (৩৩ বল) করেন হৃদয়। শফিকুল ইসলামের বলে রবির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। একই ওভারে মেহেদী হাসানকেও ক্যাচ আউটের ফাঁদে ফেলেন শফিকুল। ওভারটি মেডেনও হয়। মোট দুইটি মেডেন ওভার করেন এই বাঁহাতি পেসার।

নির্ধারিত ২০ ওভারে বরিশাল সংগ্রহ করেছে ১০৮ রান। ছক্কা মেরে বরিশালের ইনিংস শেষ করেন তাসকিন আহমেদ।

ঢাকার রবি ৪ ওভারে ২০ রানের বিনিময়ে শিকার করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট। নাঈম ৪ ওভারে ৮ খরচায় পান ১টি ও শফিকুল ১০ রান খরচায় পান ২টি উইকেট। রুবেল নিয়েছেন একটি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফরচুন বরিশাল ১০৮/৮ (২০ ওভার)

হৃদয় ৩৩, তামিম ৩১, মিরাজ ১২;

রবি ৪/২০, শফিকুল ২/১০, নাঈম ১/৮।

বেক্সিমকো ঢাকা ১০৯/৩ (১৮.৫ ওভার)

রাব্বির ৪৪*, মুশফিক ২৩*, তানজিদ ২২;

মিরাজ ১/১৩।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »