৩ নেতার প্রচারণা নাকি শক্তির মহড়া?

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিযোগিতামূলক শক্তির মহড়ায় নেমেছেন। যদিও সেখানে নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা হয়নি। পৌরসভার ১ নম্বর সোনাপুর ওয়ার্ডে তারা পাল্টাপাল্টি মোটরসাইকেল মহড়া, মিছিল, আলোচনা সভা করছেন।

প্রার্থীরা সবাই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি আনোয়ার হোসেন খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরেও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মহড়া দিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল হাসান ফয়সাল মাল। বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল এতে অংশ নেয়।এরআগে প্রচারণায় নামেন ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রাজু ও উপজেলা শ্রমিক লীগের একাংশের সভাপতি নজরুল ইসলাম লেদু মাল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল মাল শনিবার সোনাপুর মালের পুল থেকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বাজার ও ওয়ার্ডের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই-তিনজন করে উঠতি বয়সের নেতাকর্মী ছিলেন।

ফয়সাল মালের ভাষ্যমতে, চার শতাধিক মোটরসাইকেল তার বহরে অংশ নিয়েছে। এরআগে ‘মুরব্বিদের’ নিয়ে তার বাড়িতে পরামর্শ সভা করেছেন। সংঘাতে না জড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) পশ্চিম সোনাপুর এলাকায় শাখাওয়াত হোসেন রাজু নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন। সেখানে ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল বাশার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার আঠিয়াসহ ১৫-১৬শ লোক উপস্থিত ছিলেন দাবি করেন রাজু।

তিনি বলেন, আমি ওয়ার্ডে যেসব উন্নয়ন করেছি, তা সভা ডেকে মানুষের কাছে তুলে ধরেছি। ভবিষ্যতে যা পরিকল্পনা রয়েছে তাও জানিয়েছি। অন্য প্রার্থীরা বহিরাগত এনে মহড়া দিচ্ছে।

এছাড়া সোমবার (২৩ নভেম্বর) নজরুল ইসলাম লেদু মাল সোনাপুর বাজার ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মোটর ইকেল মহড়া দিয়েছেন। পরে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা সভা করেন।লেদু মাল বলেন, আমি প্রায় আড়াইশ লোক নিয়ে মিছিল করেছি। নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য আওয়াজ দিয়েছি মাত্র।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনাপুর বাজারের দুজন ব্যবসায়ী জানান, প্রার্থীরা যেন সেখানে শক্তির মহড়ায় নেমেছেন। কে, কার চেয়ে বেশি লোক জড়ো করবেন তার প্রতিযোগিতা চলছে। এতে বাড়ছে বহিরাগতদের আনাগোনা। যেকোনো সময় প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রার্থীরা নির্বাচনের তফসিলের আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিক বলেন, যেসব এলাকায় এখনও তফসিল ঘোষণা হয়নি সেখানে প্রার্থীরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী নিয়মের আওতায় পড়েনি। প্রার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি ঘটলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »