বাংলাদেশের সিনেমা হলে বলিউডের নতুন সিনেমা

বাংলাদেশের সিনেমা হলে বলিউড তথা ভারতের নতুন সিনেমা মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি ঢাকার কয়েকটি সিনেমা হলে মুক্তি পায় বলিউডের সিনেমা ‘ওয়ান্টেড’। এই সিনেমা আমদানি করেছিল ইনউইন এন্টারপ্রাইজ। এ সিনেমা ছাড়াও বলিউডের ‘তারে জমিন পার’, ‘থ্রি ইডিয়টস’ ও ‘ধুম থ্রি’ মুক্তি পেয়েছিল তখন। চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের ব্যানারে ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা মানববন্ধন করেন। মামলা ও কর্মবিরতির কারণে সেসময় বলিউডের চলচ্চিত্র এ দেশে আসা ও প্রদর্শন বন্ধ হয়েছিল। যদিও তখন বলিউডের পুরনো সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল।

এখন ভারতে মুক্তির দিনই বাংলাদেশে মুক্তি দেওয়া হবে বলিউডের সিনেমা। সাফটা চুক্তিকে কিছুটা ‘আপগ্রেড’ করে এমন পথেই হাঁটছেন বাংলাদেশের সিনেমা হল মালিকরা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সহ-সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের দেশে অনেকগুলো হল বন্ধ। দর্শক আসছে না হলে। সারাদেশে হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের কন্টেন্ট সংকট, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। সারাদেশের হল মালিকরা একমত হয়েছি, আমরা ভারতের ছবি নিয়ে আসবো। এর আগে মামলা-মোকদ্দমা করে পুরনো হিন্দি সিনেমা নিয়ে এসেছি। কিন্তু পুরনো কোনো সিনেমা আমরা আর আনতে চাই না। আমরা চাই, বলিউড ও কলকাতার সিনেমা যেদিন মুক্তি পাবে, আমাদের এখানেও একইদিন মুক্তি পাবে। করোনা মহামারিতে তো অবস্থা আরো খারাপ। সবকিছু বিবেচনা করে বলিউডের সিনেমা আমদানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ হল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘সিনেমা হল বাঁচাতে হলে ভালো ছবি লাগবেই। বিশ্বের অনেক নামী সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে করোনা মহামারিতে। আমাদের এখানেও অবস্থা খারাপ। ভারতীয় নতুন ছবি পরীক্ষামূলক চালানো যেতে পারে। সিনেমা হল বাঁচাতে পারবো কি-না জানি না। দর্শকের কাছ থেকে যদি ইতিবাচক সাড়া না মেলে তাহলে বলিউডের সিনেমা মুক্তি দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।’

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার কারণেই এমনটি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যেমন মন খারাপ হচ্ছে তেমনি আবার বাস্তবতাকে অস্বীকারও করতে পারি না। সিনেমা হলগুলো যদি ভালো-মানসম্মত সিনেমা না পায় তাহলে কী করবে। সিনেমা হল বন্ধ হয়ে মার্কেট হয়ে যাবে। বলিউডের ছবি কিন্তু আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে দেখি, দেখে আসছি। এক সময় ডিশের মাধ্যমে দেখেছি। এখন হিন্দি সিনেমা মুক্তির পরের দিনই বা দু-দিনের মধ্যে আমরা পাইরেটেড কপি দেখছি। বলিউডের সিনেমা দেখা কিন্তু আমাদের থেমে নেই। নেটফ্লিক্স, হইচই প্লাটফর্মে আমরা দেখছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন আমাদের প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হবে। যারা ব্যর্থ হবে তারা টিকতে পারবে না। আন্তর্জাতিকমানের বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। মানসম্মত কাজ করতে হবে, না হলে আগামীতে আরো কিছু আসবে। এসব ভাবতে হবে। ভালো কাজের দিকে বেশি মন দিতে হবে। বিগত কয়েক বছরে কয়টি ব্যবসাসফল সিনেমা দিয়েছি আমরা? এগুলো আমাদের ব্যর্থতার ফসল।’

পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান, ‘আমি চাই বলিউডের সিনেমা আসুক। একটি প্রতিযোগিতা হোক আমাদের মধ্যে। তাহলে ভালো সিনেমা নির্মিত হবে। ভালো সিনেমা ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারবে না। যারা ভালো ছবি বানাবে শুধু তারা টিকে যাবে। সব ভাষার ছবি আসুক আমাদের এখানে। তাহলে মানসম্মত ছবি নির্মাণ আরো বাড়বে। তাই আমি চাই, বলিউডের ছবি মুক্তি পাক আমাদের এখানে।’ পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘পৃথিবীর সব ভাষার ছবি আমাদের এখানকার সিনেমা হলে মুক্তি পাক। কেননা, সবকিছু একটি বিন্দুতে এসে মিলেছে। তবে বলিউডের হিন্দি সিনেমা মুক্তির বিষয়ে আমার কিছু কথা আছে। আমাদের এখানে সবখানেই হিন্দি গানের জোয়ার। গ্রাম থেকে শহরে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে হিন্দি গানের প্রাধান্য দেখা যায়। মানুষ হিন্দি সিনেমার খবর বেশি রাখে। হলিউডের ছবির বিষয়ে তেমন কথা শোনা যায় না। হিন্দি সিনেমা মুক্তি বিষয়ে সরকারের কিছু স্বচ্ছ নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। টিকেটের দাম থেকে শুরু করে মূল্য সংযোজন কর বিষয়ে অবশ্যই পার্থক্য থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে শুধু বলিউড কেন? ইরানি, কোরিয়ান ভাষার ছবিও মুক্তি দেওয়া হোক। তবে সব দেশের ছবির অবশ্যই বাংলা সাব টাইটেল থাকতে হবে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা আমাদের দেশের দর্শকরা সিনেমা হলে বলিউডের চেয়ে ভালো বাংলা সিনেমা দেখতে বেশি পছন্দ করেন। নিয়মনীতির বিষয়ে কঠোর হতে হবে। তাহলে সব ভাষার ছবি মুক্তি পেলেও কোনো সমস্যা নেই।’

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »