নারীদের সাহসী করে তুলতে কাজ করে যাব

বিবিসির জরিপে অগ্রগামী ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পাওয়া কক্সবাজারের স্বেচ্ছাসেবী তরুণী রিমা সুলতানা রিমু বলেছেন, আমি মনে করি নারীরা সাহসী হলেই এগিয়ে যাওয়া সহজ। সাহস না থাকায় নারীরা অনেক কিছুতেই পিছিয়ে রয়েছে। নারীরা সাহস করে কিছু না বলায় অনেক সমস্যারও সমাধান হয় না। এমন স্বভাবের নারীরা গ্রাম-শহর সবখানেই কষ্টে রয়েছে। তাদের কষ্ট আমাকে পীড়া দেয়। এসব নিয়েই আমি কাজ করতে আগ্রহী। আমার চাওয়া বাংলার এক জন নারীও পেছনে পড়ে থাকবে না। প্রত্যেক নারীকে সাহসী করে তুলতেই আমি কাজ করে যাব।

 

গতকাল বুধবার রিমা আরো বলেন, মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সংবাদে বিবিসির ১০০ নারী তালিকায় আমার নামটি দেখে প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারিনি। খুশিতে দৌড়ে মাকে জাপটে ধরেছি। তারপর ছুটে গেছি, যার অনুপ্রেরণায় আজকের এ স্বীকৃতি- সেই এনজিও ‘জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা’-এর চেয়ারম্যান ও নির্বাহী শিউলি শর্মা ম্যামের কাছে। তিনি বলেন, এতদিন কাজ করেছি খেয়ালিপনায়। আজ থেকে দায়িত্ব বেড়েছে। সে হিসেবে এখন আমার যাত্রা নতুন করে শুরু হলো।

কক্সবাজারের রামুর রাজারকুল পশ্চিম সিকদার পাড়ার কৃষক আবদুর রহিম ও গৃহিণী খালেদা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান রিমা (১৯) চলতি বছর এইচএসসি পাস করেছেন। বিবিসির এ সম্মাননা আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে অজপাড়াগাঁয়ের অদম্য এই তরুণীকে। ‘জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা’র স্বেচ্ছাসেবী হয়ে সমমনা তরুণীদের নিয়ে দল বেঁধে পাড়া-মহল্লা, রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে বয়স্ক নারীদের সাক্ষরতা থেকে শুরু করে সমাজের ভালো কাজগুলো নিয়ে শেয়ার করেন রিমা। বাল্যবিয়ে রোধ কেন প্রয়োজন, নারীর প্রতি সহিংসতা, নারীরা কেন পিছিয়ে থাকে—এসব ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করেন তিনি। কোভিড-১৯-এর শুরু থেকে তার স্বেচ্ছাসেবক দল নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণবিরোধী র্যালি থেকে শুরু করে ধর্ষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতেও কাজ করছেন তারা।

কেন, কীভাবে স্বেচ্ছাসেবী হলেন—এই প্রশ্নের জবাবে রিমা বলেন, অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে স্কুলজীবন পার করার পর অন্যের জন্য কাজ করতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেই। আমার সিদ্ধান্তে মা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালেদা ম্যাডাম সাহস যোগালেন। তাদের সাহসকে পুঁজি করে ‘জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা’-এর রামু অফিসে যাই। তারা একটি দলভিত্তিক কাজ দিয়ে পরীক্ষা নিলেন। কাজে সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে দায়িত্ব দিলেন, ‘গার্লস অ্যাম্বাসেডর ফর পিস’ নামের একটি প্রকল্পে। আমি হয়ে গেলাম শান্তির দূত। এখন কক্সবাজার ভিত্তিক ‘ইয়াং উইমেন লিডার্স ফর পিস’-এর সদস্য আমি।

 

রিমু জানান, চলতি বছর অটোপাসে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এনজিওতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজের পাশাপাশি টিউশনি ও রামু সদরে একটি স্পোকেন ইংলিশ প্রতিষ্ঠানের কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। ছোট বোন সানজিদা মুশতারি ইমান ও কামরুল হাসান জিহাদ স্কুলে পড়ছে। সরকারের কাছে তার নিজের জন্য কোনো চাওয়া নেই। সামগ্রিকভাবে চান, যুবাদের সৃষ্টিশীল মেধার মূল্যায়ন হোক। চাহিদা মাফিক প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে যুবাদের যোগ্য করে তুলতে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানালেন এই অগ্রগামী নারী।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »