কৃষিতে প্রণোদনার অর্ধেক টাকাও বিতরণ হয়নি

গত এপ্রিলে করোনার প্রকোপ সামলাতে ও খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি স্কিম বা তহবিল গঠন করে সরকার। কৃষকের জন্য তহবিলের এ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয় ৪ শতাংশ। এ তহবিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ঋণ পেয়েছেন ৮৫ হাজার কৃষক।

এদিকে কম সুদের ঋণ বিতরণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না অনেক ব্যাংক। অক্টোবর পর্যন্ত এ খাতের বরাদ্দকৃত ঋণের মাত্র ৪৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাস্তবায়ন করছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে ১৬টি ব্যাংক তাদের বরাদ্দকৃত ঋণের ১০ শতাংশও বিতরণ করতে পারেনি।

জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল ৫ হাজার কোটি টাকার একটি স্কিম বা তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধান, গম, আলু, ভুট্টাসহ সব ধরনের শস্য ও ফসল উত্পাদনে ঋণের সুদহারও ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়। ঐ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে সব ধরনের ঋণের সুদহার হবে ৪ শতাংশ। আগে কৃষিঋণের সাধারণ সুদহার ছিল ৯ শতাংশ, এখন সেখানে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শর্ত অনুযায়ী এ ঋণ বিতরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ক্লেইম করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা দিয়ে দেবে। এতে কৃষককে মাত্র ৪ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। ১৮ মাস (ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ) মেয়াদি এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে কৃষককে।

এ প্রণোদনা তহবিল এবং সুদ কমানোর ঘোষণার ৬ মাসে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে মোট ৮৪ হাজার ৯৪১ জন কৃষক ঋণ পেয়েছেন। এসব কৃষকের মধ্যে ২ হাজার ৮৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সে হিসেবে এ প্যাকেজের বাস্তবায়নের হার মাত্র ৪৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক একাই ৫২ হাজার ৮২৮ জন কৃষককে ১ হাজার ৫৭ কোটি ০৭ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। এ ব্যাংক এখনো প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করবে। এরপরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ দিয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। ব্যাংকটি ৭ হাজার ২৯ জনকে ঋণ দিয়েছে ৩২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক ৪ হাজার ৭৪২ জনকে ঋণ দিয়েছে ৪৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংক ৭ হাজার ৪৯৮ জনকে ঋণ দিয়েছে ৫১ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংক ৩ হাজার ৭৯২ জনকে ঋণ দিয়েছে ৩২ কোটি ২০ লাখ টাকা। আর জনতা ব্যাংক ২ হাজার ৩০৩ জন গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৩১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

বেসরকারি খাতের ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এক্সিম ব্যাংক। এ ব্যাংক ১৭১ জন কৃষককের মধ্যে ১১৩ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। এরপর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ১ হাজার ৬৯০ জন কৃষককে দিয়েছে ৭০ কোটি টাকা ঋণ। আর ব্র্যাক ১ হাজার ৪০০ জন কৃষককে ৬০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

পোল্ট্রি, মত্স্য, ডেইরি, প্রাণিসম্পদ, মৌসুমভিত্তিক ফুল ও ফল চাষের জন্য গঠন করা ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের বরাদ্দকৃত অর্থের ১০ শতাংশও বিতরণ করতে পারেনি কয়েকটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।

 

জানা গেছে, প্রণোদনার এই অর্থ বিতরণে বিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ উদ্বিগ্ন। কেন বিলম্ব বা ঋণ বিতরণ কেন হচ্ছে না এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তদারকি কমিটি গঠন, শাখা পর্যায়ে ফোন করাসহ বেশ কিছু উদ্যোগও গ্রহণ করেছে ব্যাংক সেক্টরের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »