এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে

গান, কবিতা ও নৃত্যে সবাই বরণ করে নিল হেমন্ত ঋতুকে। গতকাল ছিল অগ্রহায়ণের প্রথম দিন। শিল্পকলা একাডেমিতে কফি হাউজের উন্মুক্ত আঙিনায় অনুষ্ঠিত হলো নবান্ন উত্সব ১৪২৭। এসো মিলি সবে নবান্নের উত্সবে, স্লোগানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নবান্নোউৎসব উদ্যাপন পর্ষদ।

ধানের ছড়া আর ব্যাকড্রপে ফুল, লতাপাতাসহ ছিল গ্রামবাংলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নানা লোকজ অনুষঙ্গ। খই-মুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় উত্সব উপভোগকারীদের। যন্ত্রসঙ্গীতের সুরের মূর্ছনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। মন্দিরা, বাঁশি, ঢোল আর এক তারার সম্মিলনে ভেসে বেড়ায় ‘প্রাণ সখীরে, ওই শোন কদম্বতলায় বংশী বজায় কে’ গানের সুর।

এরপর মঞ্চে দনিয়া সবুজকুড়ি কচি-কাঁচার মেলা। শিশু শিল্পীরা কণ্ঠে তুলে নেয় ‘আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা’ শীর্ষক সঙ্গীত। গানের সুরটি থামতেই নৃত্যের ছন্দে আলোড়িত হয় উত্সব। সুরের আশ্রয়ে নেপথ্যে ভেসে বেড়ায় কল্যাণের বার্তাবহ বাণী—আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য-সুন্দর/ মহিমা তব উদ্ভাসিত মহাগগনমাঝে…। এই নাচের তালে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে উত্সবের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নবান্নোত্সব উদ্যাপন পর্ষদের সহসভাপতি বুলবুল মহলানবীশ ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম হাসান সুজা। সভাপতিত্ব করেন পর্ষদের সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পর্ষদের সহসভাপতি মানজার চৌধুরী সুইট।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে পুনরায় শুরু হয় পরিবেশনা পর্ব। তামান্না সারোয়ার নীপার গ্রন্থনায় মৈত্রী শিশু দলের বাচিক শিল্পীরা উপস্থাপন করে ‘এই নবান্নে’ শীর্ষক আবৃত্তি প্রযোজনা। বহ্নিশিখার শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করে ‘কালো জলে কুচলা’ ও ‘অঘ্রানেরই সকালে ভাঙে সবার ঘুম’ শিরোনামের গান। সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশিত গানের শিরোনাম ছিল ‘কাটি ধান কাটি ধান।’ আবৃত্তিশিল্পী রেজিনা ওয়ালী লিনা কণ্ঠে উচ্চারিত হয়—প্রথম ফসল গেছে ঘরে/হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝ’রে/শুধু শিশুিরের জল;অঘ্রানের নদীটির শ্বাসের/হিম হয়ে আসে…। পঠিত হয় জীবনানন্দের কবিতা ‘পেঁচা’।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »