স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই বাস ও ট্রেনে

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক থাকলেও গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতে মোটেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ট্রেন ও বাসের সবগুলো আসনে যাত্রী বসার সাথে সাথে মাস্ক পরিধান ছাড়াই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছে অনেকে।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সকালে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের কয়েকটি ট্রেন ও বিকেলে পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তায় একাধিক বাসে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

সরেজমিনে ট্রেনের ভিতরে বেশির ভাগ যাত্রীকে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। প্রায় অর্ধেকের বেশী যাত্রীর মুখে ছিল না কোনো মাস্ক। ট্রেনের টিকিট সীমিত বিক্রি হলেও প্রায় সবগুলো আসন পূর্ণ ছিল। এছাড়াও ট্রেনের দরজা ও মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল বেশকিছু যাত্রী। আর ট্রেনে খাবার বিক্রির কোনো বিধান না থাকলেও প্রচুর হকারকে ট্রেনে উঠে খাবার বিক্রি করতে দেখা গেছে মাস্ক পরিধান ছাড়াই।অভিযোগ রয়েছে, ট্রেনের দায়িত্বরতরা টিটিই ও স্টাফরা যাত্রীদের থেকে বাড়তি টাকা নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীদের বসার সুযোগ করে দেন। যা স্বাস্থ্য বিধির বাস্তবায়নে অন্তরায়।

শিশু ছেলে তামিম ও নিজের স্ত্রী রাশিদাকে সাথে নিয়ে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনে শ্রীপুর থেকে বনানীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন আবুল হোসেন। মাস্ক পরিধান না করার কথা বলতেই তিনি বলেন, আমি একা পড়লে লাভ কী,পাশের কেউ তো পড়ে নাই। আমাদের মাস্ক ব্যাগের ভেতর রয়েছে। সবসময় পড়তে গেলে অস্বস্তি লাগে।

এদিকে, মাওনা চৌরাস্তা হতে ময়মনসিংহ ও গাজীপুরগামী বেশির ভাগ যানবাহনেই মানা হয়না স্বাস্থ্যবিধি।চান্দনা চৌরাস্তাগামী তাকওয়া পরিবহনের যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাসে চড়া আকাশকুসুম ভাবতে হবে। কেননা, যেখানে মানুষ দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতেই বাহন পাচ্ছে না সেখানে সরকারের নির্দেশিত প্রতি দুই আসনের বিপরীতে একজন বসার বিধান বাস্তব রূপ শুধু কাগজে কলমে সীমিত।

এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, করোনা মুহূর্তে সরকারের দেয়া সকল নির্দেশনা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের নিয়ে ইতোমধ্যে সভা-সেমিনার করা হয়েছে। যাত্রার পূর্বে এবং যাত্রাকালীন পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা নিয়মিতই কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, ঢাকা রেলওয়ের একটি সূত্রে জানা যায়,ব্যাপক সংখ্যক যাত্রীর বিপরীতে ট্রেনে পর্যাপ্ত লোকবল নেই। অনিয়ম রোধ করার মতো যে ধরনের লোকবল দরকার, ঘাটতি থাকায় যাত্রীদের নিয়ম মানানো কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মোস্তাফিজুর রহমান যায়যায়দিনকে জানান, যে কোনো যানবাহনে বসার সময় পারস্পারিক নূন্যতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে যাত্রীদের বলা হচ্ছে। প্রধান প্রধান স্টেশনে যাত্রীদের ঢুকতে গেলেই মাস্ক ও টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে, লোকাল স্টেশনগুলোতে মাস্ক পরিধান ছাড়াই অনেকে ট্রেনে উঠে পড়ে। এ ধরনের ঘটনা তদারকির জন্য স্পট টিম রয়েছে। অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় এসব মনিটরিং করা কঠিন হয়ে পড়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের দু-একজন টিকিট কাটলেও পরে তাদের পাশাপাশি বসার জন্য আরও একাধিক আত্মীয় উঠে পড়ে। এছাড়াও শিশু ও বৃদ্ধদের সাথে নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। সব মিলিয়ে যাত্রীদের সহজতর যাতায়াতের সাথে সাথে তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিরলস ভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি ।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »