বীজ আলুর দাম নির্ধারণ চায় মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা

নভেম্বরের ১থেকে ৩০তারিখ জমিতে আলু আবাদের উপযুক্ত সময়। অর্থাৎ আবারো চলে এসেছে আলু আবাদের মৌসুম। আবাদের জন্য এরমধ্যেই মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা বীজ আলু সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। তবে বীজ আলু ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবছরই দাম নিয়ে কৃষকদের পড়তে হয় বিপত্তিতে। বেশি দামে বীজ সংগ্রহ করার আশংকা করছে কৃষকরা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া লোকসানের কবলে পড়তে হয় তাদের। এক্ষেত্রে খাবার আলুর দাম যেভাবে সরকার নির্ধারণ করছে বিএডিসির পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায় বীজ আলুর দাম নির্ধারণ করা দাবী উঠেছে কৃষকদের মাঝে।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, এবছর মুন্সীগঞ্জের ৬টি উপজেলায় ৩৮হাজার ৫০০হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১হাজার হেক্টর বেশি। এদিকে বন্যার পানি কমতে ধরে হওয়ায় এখনো আলু নিয়মিত পর্যায় এখনো করতে পারছে না কৃষকরা। তবে অতিদ্রুতই পুরোধমে আলু রোপণ করতে শুরু করবে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এসময়ের মধ্যে বেসরকারি পর্যায়ে জাত অনুযায়ী বীজ আলুর দাম নির্ধারণ করা করে দিলে খাবার আলুর মত বীজ আলুতেও দাম নৈরাজ্যরোধ করা যাবে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চিতলিয়া এলাকার কৃষক রিপন মাহমুদ জানায়, প্রতিবছর আলু আবাদ করি। একই আলুর বীজ কম-বেশি দামে কিনতে হয়। বিএডিসিও আলু বেশি দাম বিক্রি করে। এতে শতাংশ প্রতি আলুর খরচ বেশি পরে যায় আমাদের। বেশি দাশে ক্রয় করলে লোকসানের সম্ভাবনা বেশি৷ তাই দাম নির্ধারণ করে দিলে কৃষকরা উপকৃত হবে।

একই কথা জানায় আরেক কৃষক আবু তালেব।

মুন্সীগঞ্জ বিএডিসি’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (বীজ বিপনন) কৃষিবিদ মোঃ রুহুল কবির জানান, প্রতিবছর নভেম্বরে ১০-১২তারিখের মধ্যে বীজ আলু বিপনন করা হয় তবে এবছর বন্যার কারনে জেলা জমি গুলোতে এখনো পানি নামেনি। তাই এবার বিতরণে আরো কিছুটা সময় লাগবে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন হিমাঘারে স্থানীয় কৃষকদের এখন ৮২হাজার ৯শ মেট্রিকটন বীজ আলু মজুদ আছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এসব বীজ জেলার জন্য পর্যাপ্তের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি বিএডিসির ও বেসরকারী পর্যায়ে বিদেশী বীজ আসলে মজুদকৃত আলুর অর্ধেকই ব্যবহৃত হবে না।

মুন্সীগঞ্জ কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, বিএডিসির আলুর দাম সরকার ভাবে গ্রেড অনুযায়ী ৪৬-৪৭টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে বেসরকারি পর্যায় সরকার এখনো পর্যন্ত বীজ আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করেনি। এবিষয়ে সরকারের এখনো কোন নির্দেশনা নেই। এসবে সভায় এমন কোন সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা পেলা সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বেশি দাম দিয়ে কৃষকরা বিদেশি ডিলার সীট বীজ ক্রয় করে। এসব বীজ থেকে উৎপাদিত আলুকে খাবার আলু হিসাবে তারা বাজারে বিক্রি করে দেয়। কিন্তু উৎপাদিত আলু পরের ২বছর নেটিং পদ্ধুতিতে বীজ হিসাবে আবাদ করা সম্ভব। একে ফাউন্ডেশন শীট বলে। এটি করা হলে বেশি মূল্য দিয়ে বিদেশ থেকে বারবার বীজ আলু আমদানি করতে হতো না। উৎপাদন খরচও কমে যেতো।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »