মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসিতে চলছে চিরুনি অভিযান, তৃতীয় দিন আড়াই লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত অন্যান্য রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) চলমান বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের (চিরুনি অভিযান) তৃতীয় দিনে আজ বুধবার ১৩ হাজার ৬০৭টি বাড়ি, স্থাপনা ইত্যাদি পরিদর্শন করে ১৩৮টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়।

এছাড়া ৭ হাজার ৫৮৭টি বাড়ি, স্থাপনা ইত্যাদিতে জমে থাকা পানি পাওয়ায় সেখানে মশার কীটনাশক প্রয়োগ করে জমে থাকা পানি ফেলে দেয়া হয়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আজ ১৮টি মামলায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ডিএনসিসির সকল ওয়ার্ডে (৫৪টি) একযোগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়।

উত্তরা অঞ্চলে (অঞ্চল-১) মোট ৮২৯টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৭১৬টি বাড়ি, স্থাপনায় জমে থাকা পানি পাওয়া যায়। এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় এ সময় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়নের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৭টি মামলায় মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মিরপুর-২ অঞ্চলে (অঞ্চল-২) মোট ২ হাজার ৭২৩টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৯টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৩৫৪টি বাড়ি, স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় এ সময় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শফিউল আজমের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩টি মামলায় মোট ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মহাখালী অঞ্চলে (অঞ্চল-৩) মোট ১ হাজার ৮৫৬টি বাড়ি, স্থাপনা ইত্যাদি পরিদর্শন করে ৫৩টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ১ হাজার ২৯০টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় এ সময়ে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল বাকীর নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২টি মামলায় মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মিরপুর-১০ অঞ্চলে (অঞ্চল-৪) মোট ১ হাজার ৫৫৯টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৮৯১টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

কারওয়ান বাজার অঞ্চলে (অঞ্চল-৫) মোট ২ হাজার ৪৫৩টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ২ হাজার ১০৫টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পারসিয়া সুলতানা প্রিয়াংকার নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩টি মামলায় ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

হরিরামপুর অঞ্চলে (অঞ্চল-৬) মোট ১ হাজার ৪৭৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ২৬৭টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবদুল হামিদ মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩টি মামলায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

দক্ষিণখান অঞ্চলে (অঞ্চল-৭) মোট ৮১৮টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৫৮৮টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

উত্তরখান অঞ্চলে (অঞ্চল-৮) এর অধীনে মোট ৬৪৯টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১টি স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৪৩৭টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

ভাটারা অঞ্চলে (অঞ্চল-৯) মোট ৪৯৬টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৩২৫টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

সাতারকুল অঞ্চলে (অঞ্চল-১০) মোট ৭৫০টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৬১৪টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ সকল স্থানে মশার কীটনাশক প্রয়োগ করে জমে থাকা পানি ফেলে দেয়া হয়।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »