নিট ব্যাংকঋণ কমেছে সরকারের

ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার গতি কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত (তিন মাস ২০ দিন) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ২৩ হাজার ৯০৫ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ২১ হাজার ২২৩ কোটি টাকা শোধ করেছে। এতে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দুই হাজার ৬৮১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৩৩ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৈদেশিক ঋণ সহায়তা ও সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কিছুটা গতি আসায় সরকারের ব্যাংকঋণের প্রয়োজন কম হচ্ছে। আর এ কারণেই সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগের দেনা শোধ করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা খুব একটা নেই। অন্যদিকে বিনিয়োগ ভাটায় ব্যাংকের হাতেও প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। তাই সরকারকে ঋণ দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও কোনো সমস্যা নেই।

প্রতিবছরই বিশাল ঘাটতির বাজেট পেশ করে আসছে সরকার। এই ঘাটতি মেটানো হয় দুটি উৎস থেকে। এগুলো হলো অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাত। বৈদেশিক খাত থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পাওয়া না গেলে অভ্যন্তরীণ উৎসর ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয় সরকারকে। অভ্যন্তরীণ উৎসর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র খাত। এ ছাড়া রাজস্ব আদায় কম হলেও ব্যাংকব্যবস্থার ওপর আরো চাপ বাড়ে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকিং খাত থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হিসাবে প্রতি মাসে সাত হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি ঋণ নেওয়ার কথা রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এবারও অর্থবছরের শুরুতে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয় সরকার। জুলাই মাসের প্রথম ১৬ দিনেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার নিট ঋণ নিয়েছিল প্রায় আট হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। তবে জুলাই মাসের পুরো সময়ে নেয় ৯ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। এর পর থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার গতি লক্ষ্যের মধ্যেই রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৯০৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তবে এই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের নেওয়া ২১ হাজার ২২৩ কোটি টাকা শোধ দেখানোয় নিট ব্যাংকঋণ হয়েছে মাত্র দুই হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। সাধারণত সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে নতুন টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ করতে হয় বলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বিদ্যমান জোগানের মধ্যেই অর্থের সরবরাহ থাকে। ফলে মূল্যস্ফীতিতে বাড়ার আশঙ্কা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে গত অর্থবছরজুড়ে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে অস্বাভাবিক ঋণ নিয়েছিল সরকার। বাজেট ঘাটতি মেটাতে গত অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। পরে তা বাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৪২১ কোটি টাকা করা হয়।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »