ভারতে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় কাশ্মীরের দুই জমজের ‘রেকর্ড’ ফলাফল

কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার দোকানদার বশির আহমেদের দুই জমজ ছেলে ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রেন্স টেস্টে (এনইইটি) অভুতপূর্ব ফলাফল অর্জন করেছে। বশিরের গ্রামবাসী ছাড়াও আশপাশের একালার মানুষও এই অর্জনে তার দুই সন্তানকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।

জমজ দুই ভাইয়ের নাম গওহার বশির ও শাকির বশির। এনইইটি-এর ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট নম্বর থাকে ৭২০। সেখানে গওহার পেয়েছে ৬৫৭ এবং শাকির পেয়েছে ৬৫১ নম্বর। অভূতপূর্ব এই ফলাফলে তাদের আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে গ্রামবাসীরা পর্যন্ত সাধুবাদ জানাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে গওহার বলেন, সর্বপ্রথম আমি মহার সৃষ্টিকর্তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এরপর আমি আমার মাতা-পিতা ও ভাইয়ের কথা স্মরণ করবো। কারণ তারা পাশে না থাকলে এই সফলতা অর্জন করা সম্ভব হতো না। আমার মাতা-পিতা আমাকে সবসময় কঠিন অধ্যাবসায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি যখন গাফিলতি করেছি তখন আমাকে কড়া শাসন করেছেন। কীভাবে শতভাগ চেষ্টা করতে হয় তা আমার মাতা-পিতা আমাকে শিখিয়েছেন।

 

গাওহারের সুরেই তাল মিলিয়েছেন তার জমজ শাকির। তিনি বলেন, আমাদের এই সফলতায় মা-বাবার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন পরিশ্রমের গুরুত্ব তারা আমাদের উপলব্ধি করিয়েছেন। আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারে অর্থের সংকট সবসময়েই লেগে থাকতো। কিন্তু আমার মাতা-পিতা এই সংকট থাকার পরেও কখনো পড়ালেখা থেকে আমাদের বিমুখ করার চেষ্টা করেননি বরং সর্বোচ্চ দিয়ে আমাদের উৎসাহিত করে গেছেন।

 

দুই সন্তানের সফলতায় আনন্দে আপ্লূত বশির আহমেদ। নিজ অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দোকান চালিয়ে মাসে কোনোরকম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উপার্জন করি আমি। এই দিয়েই আমি ও আমার স্ত্রী সংসার পরিচালনা করে আসছি। এছাড়া সুযোগ পেলেই আমি অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করি। যাতে বাড়তি কিছু পয়সা উপার্জন করে সন্তানদের পড়ালেখা নির্দ্বিধায় চালাতে পারি। তারা যেই ফলাফল এনেছে তাতে আমি সত্যিই আনন্দিত। আমার সব পরিশ্রম যেন সার্থক হলো। তাদের এই কীর্তিতে শুধু আমিই না, পুরো গ্রামবাসীই গর্বিত।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »