এক ভোট পাওয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন শফিকুল ইসলাম মানিক

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়িয়ে মাত্র ১ ভোট পেয়েছেন সাবেক ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। ১৩৫ ভোটারের মধ্যে কে মানিকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়েছেন? এটা ফুটবল অঙ্গনে এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

পরিবর্তনের ডাক দিয়ে হঠাৎ করেই সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছিলেন মানিক। কাজী মো. সালাউদ্দিন বিরোধীরা যখন সভাপতি প্রার্থী সংকটে ভুগছিলেন তখন মানিকের ভোটে দাঁড়ানো অন্যরকম আলোচনায় আসে বাফুফের নির্বাচন; কিন্তু তার মাত্র ১ ভোট পাওয়ায় বিস্মিত অনেকে। মনোয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে এবং ভোটের আগের রাতে আবার নিজের পক্ষে সমর্থন চেয়ে বাদল রায় পেয়েছেন ৪০ ভোট। মানিক অনেক দৌঁড়ঝাপ করে পেলেন মাত্র একজনের রায়!

বাফুফে নির্বাচনে বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিক প্রার্থী হতে পারেন। তবে একজন ভোটারকে প্রস্তাব এবং আরেকজন ভোটারকে সমর্থন করতে হবে। শফিকুল ইসলাম মানিক নিজে ভোটার ছিলেন না। এক ভোট পাওয়া মানে হলো প্রস্তাবক ও সমর্থকের একজন তাকে ভোট দেননি। এমন হতে পারে ওই দুই জনের কেউই ভোট দেননি।

গোপন ভোট। কে মানিককে ভোট দিলেন সেটা ব্যালটেই লুকিয়ে আছে। তারপরও এই এক ভোট পাওয়া নিয়ে নির্বাচনের তিন দিন পর শফিকুল ইসলাম মানিক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এক ভোট পাওয়ায় দুঃখ, হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

শফিকুল ইসলাম মানিক বলেছেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে দেশের স্পোর্টস যে জায়গায় চলে গেছে তাতে যারা প্রকৃত সংগঠক আসতে পারবেন কিনা সেটা প্রশ্ন। এ নির্বাচনটা একটা দৃষ্টান্ত। সভাপতির ১২ বছরের কর্মকান্ড সবাই বলেছেন ব্যর্থ। কিন্তু এ মুহূর্তে তারা ব্যর্থ বলছেন না।’

শফিকুল ইসলাম মানিক মনে করছেন নির্বাচনটা আরো সুন্দর হতে পারতো, ‘আমি নির্বাচন করেছি; কিন্তু আমাকে সব সুযোগ দেয়া হয়নি। এজিএম শেষে সবকিছু নির্বাচন কমিশনারের অধীনে যায়। আমিও একজন প্রার্থী। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো না। আমি বাইরে, অন্য প্রার্থীরা ভেতরে- এটা ঠিক হলো না। আমার তো সমঅধিকার থাকবে। ভোটিংয়ের সময় তারা ছিলেন। গননার সময় গিয়েছিলাম ভেতরে। দুর্ভাগ্যবশত আমাকে বের করে দেয়া হয়েছে নানা অযুহাত দেখিয়ে।’

ফলাফল প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘আমি কিভাবে বুঝবো শূন্য, নাকি এক, নাকি দশ, নাকি পঞ্চাশ ভোট পেলাম? বাইরে সাপোর্টারের মতো থেকেছি। একজন প্রার্থী হিসেবে আমার যে অধিকার পাওয়ার তা পাইনি। নির্বাচনী বিধিমালায় ১০ নম্বরে বলা আছে প্রত্যক্ষভাবে ভোট গননা দেখতে পাবেন প্রত্যেক প্রার্থী। তাহলে কেন আমাকে ওখান থেকে সরিয়ে দেয়া হলো? আমি থাকলে কি হতো? আমি না থাকায় কি হয়েছে?’

তাকে কি তাহলে একজন অসচেতন মানুষ ভোট দিয়েছেন? প্রশ্ন রেখে মানিক বলেছেন, ‘এখন আমার একটা ভোট। আমি এত কাজ করেছি একটা ভোটের জন্য? নিশ্চয় না। অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। অনেকে আমাকে আশা দিয়েছেন। মনে করলাম উনারা সবাই সচেতন। এখন মনে হচ্ছে যিনি অসচেতন, এমন একজন মানুষ আমাকে ভোটটা দিয়েছেন। কে দিলেন সেটা আমি খুঁজে পাচ্ছি না। তাই আমি আমি ধরে নিচ্ছি ১৩৫ জনই আমাকে ভোট দিয়েছেন।’

এক ভোট পাওয়ায় নিজেকে কি ব্যর্থ মনে করছেন? জবাবে শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘অর্থ এখানে বড় জিনিস। এটা দুঃখজনক। এটা মনে করি বিবেকের কাছে পরাজিত হয়েছে মানুষ। অনেকে বলেছেন আমি ব্যর্থ হয়েছি। আসলে আমি ব্যর্থ হইনি। ফুটবল ব্যর্থ হয়েছে।’

আপনি কি ধারণা করতে পারেন কে ভোটটি আপনাকে দিয়েছে? ‘এখানে অনেক কাউন্সিলর আছেন আমার খেলোয়াড়। আমার অধীনে যারা খেলেছেন এমন কাউন্সিলরও আছেন অনেকে। আমার সহকর্মীরাও আছেন। কেউ কি আমাকে ভোট দেয়নি? কেউ আমাকে যোগ্য মনে করেনি? প্রশ্ন এই জায়গায়। একজন কাউন্সিলরের কথা বলব-আজ থেকে ২০ বছর আগে আমি ওর খেলা দেখে ৫০ টাকা দিয়েছিলাম গোল করেছিল বলে। সে আমাকে কথা দিয়েছিল ভোট দেবে। টপ লেভেলের কাউন্সিলর বলেছিলেন, তুমি ভোট চাওনি কিন্তু আমি তোমাকে কনফার্ম করলাম ভোট তোমাকে দেবো। এই ভোটগুলো কোথায় গেল? আমি আশ্চর্য হয়েছি।’

নিজে এক ভোট পাওয়ার মতো কিনা সে প্রশ্ন রেখে শফিকুল ইসলাম মানিক বলেছেন, ‘আমি কোনো প্লাটফর্ম থেকে দাঁড়াইনি, কিন্তু নেগেটিভ ভোট ছিল সালাউদ্দিন ভাইয়ের বিপক্ষে। যে ভোট অনেক বেশি। এখানে বাদল ভাই অনেক বাধাগ্রস্থ করেছেন। তার অবস্থানটা তিনি সুসংহত করেননি। প্রার্থী একজন যদি থাকতো তাহলে কাউন্সিলরদের আস্থা অর্জনে আরও বেশি সক্ষম হতে পারতাম। যদি বিপক্ষে ৮০-৯০টা ভোট হয়ে থাকে তাহলে ৪০+১ মিলে ৪১ টা ভোট হলো। আর ৫০টা ভোট গেল কোথায়? এটা হলো প্রশ্ন।’

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »