ফেসবুকে প্রেম: বিয়ের কথা বলে চিকিৎসকের প্রতারণা

চিকিৎসক পরিচয়ে ফেসবুকে বন্ধুত্ব, প্রেমের পর বিয়ের প্রলোভন। এছাড়াও স্কলারশিপ পাবার কথা বলে তরুণীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন পন্থায় প্রতারণা করে আসছিলেন চিকিৎসক মিজানুর রহমান শাওন।

সম্প্রতি এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসক শাওন।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর বাঘা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক মিজানুর রহমান শাওনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি দল।

এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত অ্যাপ্রন, দুটি মোবাইল, চারটি সিম কার্ড ও চারটি ভুয়া ফেসবুক আইডি উদ্ধার করা হয়। ওই চারটি আইডির তিনটিই বিভিন্ন চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে খোলা হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, বিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ব্লাকমেইলিং, চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতারক শাওনের বিরুদ্ধে।

সোমবার রাতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) রেজাউল মাসুদ জানান, রাজশাহীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ছয় মাস আগে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান শাওন।

শাওন হাসান পরিচয়ে জানান তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নি করছেন। ভিকটিম ছাত্রী সরল বিশ্বাসে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করেন। প্রথমে চ্যাটিং পরে ফোনালাপ। তৈরি হওয়া সুসম্পর্ক গড়ায় প্রেম সম্পর্কে। আর এরপরই শুরু শাওনের প্রতারণা।

শাওন বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এমনকি পারিবারিক পর্যায়ে কথাবার্তা ও পরিচয়ও হয়। ছাত্রীর পরিবার বিয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এরই মাঝে শাওন হঠাৎ জানায় যে, সে কানাডাতে স্কলারশিপের আবেদন করে সিলেক্টেড হয়েছে। বিয়ে করেই অতি দ্রুত কানাডাতে স্থায়ী হতে হবে।

যেহেতু সে একজন গরিব পরিবারের সন্তান সুতরাং তার পক্ষে বর্তমানে ভিসা এবং অন্যান্য প্রসেসিং-এর কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। স্কলারশিপ পেতে হলে অতিদ্রুত তাকে ভিসাসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আর তাই এখনই বেশ কিছু টাকা প্রয়োজন।

এভাবেই ভিকটিম এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রতারিত করে ধাপে ধাপে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে প্রতারক তার সঙ্গে যোগাযোগের যাবতীয় মাধ্যম ব্লক করে দেয়। ভিকটিম ও তার পরিবার বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে বুঝতে পারে যে তারা প্রতারিত হয়েছে।

পরবর্তীতে তারা সাইবার পুলিশ সেন্টার সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে। সাইবার পুলিশ সেন্টার সিআইডি অভিযোগ পাওয়ার পরেই প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে অনুসন্ধান পূর্বক ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামিকে শনাক্ত করে এবং বাদীর মামলার প্রেক্ষিতে সিআইডির সাইবার মনিটরিং এর একটি বিশেষ টিম অভিযুক্ত মিজানুর রহমান শাওনকে গ্রেফতার করে।

বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে এবং তার ডিভাইস পরীক্ষা করে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। শাওন বিভিন্ন চিকিৎসকের ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়।

প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে সে বিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ব্লাকমেইলিং, চাকরি দেয়ার কথা বলেও টাকা নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »