কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন রিফাতের মা, চান ন্যায়বিচার

এক বছর তিন মাস আগে ছেলে রিফাত শরীফকে হারিয়েছেন মা। ছেলে হারানোর দিন থেকে সাজানো সংসারে নেমেছে অশ্রুধারা। রিফাতকে হারানোর দিন থেকে মা ডেইজি বেগমের কান্না থামছেই না।

বাড়ির দরজায় রিফাতের কবর। প্রতিদিন সকাল-বিকেল ছেলের কবর জিয়ারত করে মা প্রার্থনা করেন- রিফাতকে আল্লাহ যেন জান্নাতবাসী করেন। খুনিরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)। মঙ্গলবার বিকেলেও রিফাতের মা ডেইজি বেগম ছেলের কবর জিয়ারত করেছেন।

রিফাতের বোন ইসরাত জাহান মৌ বলেন, ভাইয়ার খুনের মামলার রায় হবে বুধবার। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মা কাঁদছেন। কোনোভাবেই তার কান্না থামাতে পারছি না।

মৌ বলেন, ভাইয়াকে আর ফিরে পাব না। তবে তার খুনিদের কঠোর শাস্তি হলে আমরা একটু সান্ত্বনা পাব। আম্মুও স্বস্তি পাবেন। অপরাধীদের এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন; এতে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল। এরপর আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ওই ভিডিও দেখে মিন্নির বাবার বিরুদ্ধেও মামলা করার কথা জানান রিফাতের বাবা।

এরই মধ্যে মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে স্বামী হত্যায় ফেঁসে যান মিন্নি। পরদিন তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। দুদিন পরে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।

১৬ সেপ্টেম্বর মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান রায়ের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।

এর আগে ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মামলায়।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »