শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের মাদকাসক্তি ভীতিকর

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যারা মাদকাসক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। মাদকসেবী সন্দেহ হলেই সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আনা হবে ডোপ টেস্টের আওতায়। পজিটিভ হলেই নেওয়া হবে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ২৬ সদস্য ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় তাদের চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দেশের প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের মাদকাসক্ত হওয়া ভীতিকর। কাজের ক্ষেত্রে মাদকাসক্তরা ভয়ংকর হতে পারেন। বিশেষ করে অস্ত্রধারীরা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হলে যেকোনো সময় উলটাপালটা কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারেন। কারণ মাদকাসক্তদের মন-মানসিকতা অস্থির ভাব থাকে। ব্রেনের নার্ভগুলো ঠিক মতো কাজ করে না। স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। শুদ্ধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়তে সবার ডোপ টেস্ট জরুরি বলে মনোবিজ্ঞানীরা অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, মাদকাসক্তদের শারীরিক অক্ষমতা, ব্রেন অকেজো ও নার্ভগুলো অক্ষম হয়ে পড়ে। স্মরণশক্তি চরমভাবে হ্রাস পায়। সেক্সুয়াল ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যার ফলে পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হয়। মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও জাতীয় মানসিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী বলেন, অনেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক হাতিয়ে দেখতে দেখতে খেয়ে ফেলে। কেউ কেউ বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পড়ে খায়। যৌন ক্ষমতা বাড়ে বলেও অনেকে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। মজা পায় আর খায়। কিন্তু এতে যৌন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে হারিয়ে ফেলে। মাদকাসক্তদের মধ্যে চঞ্চলতা, অস্থিরতা, বিবেকহীনতা দেখা দেয়। ব্রেন টিস্যুগুলো নষ্ট হয়ে যায়। হজম ক্ষমতা কমে যায়। প্রথমে ইয়াবা একটা-দুইটা খেতে খেতে এক সঙ্গে ১০টা পর্যন্ত খায়। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। মাদকাসক্তদের ব্রেন স্ট্রোক, লিভার, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে যায়। তারা যে কোনো মুহূর্তে ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে। তারা চেইন অব কমান মানবে না—এমন অবস্থা হতে পারে। তারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

তেজগাঁওয়ের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকের চিকিত্সা করি। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নন, সকল পেশার মানুষকে রোগী হিসেবে পাচ্ছি। সচিবালয়সহ রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আছেন, যাদের কাছ থেকে দেশবাসী অনেক কিছু আশা করে, তারাও মাদকাসক্ত। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। অন্যদিকে মদকাসক্তদের মধ্যে বেশি মানুষ ইয়াবায় আসক্ত। ফেনসিডিল, গাজা ও অ্যালকোহলে আসক্তদের সংখ্যাও কম নয়। তিনি বলেন, মাদকাসক্তিদের ব্রেন কাজ করে না ঠিকমতো। কারণ মাদক এক ধরনের কেমিক্যাল। আসক্তদের অনেকেরই সে যে মানুষ সেই চেতনা থাকে না। মাদকাসক্তদের চাকরির পাশাপাশি পারিবারিক ক্ষেত্রেও অশান্তি থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য চিকিত্সা নিতে এসে বলেন, আমার কিছু ভালো লাগে না। প্রায় ইচ্ছা হয় স্ত্রীকে গুলি করে মেরে ফেলি।মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল পেশার মানুষকে গ্রেফতার করেছি এবং তাদের কাছ থেকে মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের দ্বারা দেশ অনেক কিছু আশা করে তাদের কেউ কেউ ইয়াবায় আসক্ত। পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগটিকে স্বাগত জানাই। ছয় মাস অন্তর ডোপ টেস্ট করা দরকার। তাহলে চাকরি হারানোর ভয়ে মাদক থেকে দূরে থাকবে সবাই।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »