শীতকালীন করোনার মহাবিপদ সংকেত

সামনে আসছে শীত মৌসুম। শীতের সময় যেকোনো ভাইরাসজনিত রোগ বাড়ে। এ সময়ে মানুষের শরীরে ইমিউনিটি কমে যায়। এ কারণে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে ঋতু পরিবর্তনের সময় (শীতের আগমনে) করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাবে এবং বলা হচ্ছে, প্রথম দফায় সংক্রমণ যত ব্যাপক ছিল- দ্বিতীয় দফায় তা আরো মারাত্মক হবে।

 সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ধরেই নেওয়া যায় শীতকালে এ ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার প্রকোপ বাড়বে। শীতকালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে কেননা বছরের এসময়টাতে মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত আরও অনেক ভাইরাস ও ফ্লু জাতীয় রোগের লক্ষণ দেখা যায়। 

আসলেই করোনাভাইরাস কী শীতের সময় বেশি ছড়াবে? এর সঠিক ও নিশ্চিত উত্তর এখনও পাওয়া যায় নি। তবে বিজ্ঞানীরা বলেন, এমন হবার সম্ভাবনা আছে। যদিও এটা বলা হচ্ছে অন্য ভাইরাসের ওপর ভিত্তি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, অনেকাংশেই করোনাভাইরাস আছে মোট চার রকমের -যা সাধারণ সর্দিজ্বরের লক্ষণ সৃষ্টি করে।প্রতিটিই সহজে ছড়ায় শীতের সময়। ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনোভাইরাস এবং আরএসভি নামে আরেকটি ভাইরাস–এর সবগুলোরই আচরণ মোটামুটি একই রকম। পাশাপাশি শীতের সময় একই সাথে শীতকালীন ইনফ্লুয়েঞ্জা আর করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন অনেক বিজ্ঞানী ও গবেষক।

ব্রিটেনের একাডেমি অব মেডিকাল সায়েন্সেস-এর এক পূর্বাভাসমূলক রিপোর্ট বলছে, শীতের সময় ব্রিটেনের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ হতে পারে এবং তাতে আড়াই লাখেরও বেশি লোক মারা যেতে পারে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ওয়েন্ডি বার্কলি বলছেন, এখনো অনেক কিছুই অজানা, তবে লোকে যে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে উদ্বিগ্ন তার সঙ্গত কারণ আছে এবং ব্রিটেনে একটা দ্বিতীয় ঢেউ আসা খুবই সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করোনা বিষয়ক কারিগরি প্রধান মারিয়া ভ্যান কেরখোভ এ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘শীতে মহামারির সম্ভাব্য রূপ চিন্তার বিষয়’।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের অনেক বিশেষজ্ঞও শীতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া নিয়ে ব্যাপক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ধরেই নেওয়া যায় শীতকালে এ ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার প্রকোপ বাড়বে। তার আশঙ্কা শীতকালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে কেননা বছরের এসময়টাতে মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত আরও অনেক ভাইরাস ও ফ্লু জাতীয় রোগের লক্ষণ দেখা যায়।’

অর্থাৎ শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকলে করোনাভাইরাসে প্রকোপ আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেই আশংকা একদমই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে নাহ। যেহেতু শীতকাল আসতে বেশি সময় বাকি নাই, তাই এখনই সরকারকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অতিদ্রুত আসন্ন শীতকালীন করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা না থাকলে দেশ বিপজ্জনক এ মহামারি থেকে মুক্তি পাওয়া এক কথায় অসম্ভব। আমাদের দেশের মানুষদের এটি বুঝতে হবে যে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের কমপক্ষে ৬ মাস আরও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হবে।

শীত ও করোনায় আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে মানুষকে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সার্বজনীনভাবে মাস্ক ব্যবহার, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়ার অভ্যাস বাড়ানো এবং পরীক্ষা ও আইসোলেশনের মতো স্বাস্থ্যবিধির কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা, আসন্ন শীতে করোনাভাইরাস এর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করবে এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে গ্রহণ করা সরকারের সকল কার্যকরী পদক্ষেপগুলো ভেস্তে যাবে। যার পরিণাম হবে বেশ ভয়ঙ্কর, জীবন যুদ্ধের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে হেরে যেতে হবে আমাদের।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »