সেই মকছেদ আলীর পরিবার ঘর উপহার পেল

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নিরক্ষরমুক্ত গ্রাম ঠাকুরগাঁওয়ের কচুবাড়ি কৃষ্টপুরের পুরোধা মকছেদ আলীর পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগসহনীয় ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম মরহুমের স্ত্রীর হাতে ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন ও সালন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর আলম মুকুল। এসময় জেলা প্রশাসক মকছেদ আলীর সমাধিস্থল পাকাকরণে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।

গত বছর এইদিনে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান সেলিম তার বাসার ভগ্ন অবস্থা দেখে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নতুন গৃহ প্রদানের নির্দেশনা দেন। সেই অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক দুর্যোগসহনীয় ঘর নির্মাণ করা হয়।

 

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান দেশব্যাপী সাক্ষরতা আন্দোলনের ডাক দেন। সেই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কচুবাড়ী কৃষ্ণপুর গ্রামের শিক্ষিত যুবক মকছেদ আলী।

তিনি বাড়ির পাশে পল্লী উন্নয়ন নামে একটি ক্লাবে স্থানীয় মানুষজনকে নিয়ে পাঠশালা গড়ে তোলেন। বিনা পারিশ্রমিকে স্থানীয় মানুষজনকে অক্ষর জ্ঞান দেন। সেসময় বাংলাদেশের প্রথম নিরক্ষরমুক্ত গ্রাম হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের কচুবাড়ী কৃষ্ণপুর গ্রামকে ঘোষণা করা হয়।

১৯৭৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী মকছেদ আলীর সফলতা দেখতে ছুটে আসেন তার বাড়িতে। সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ আলী, চিত্রপরিচালক চাষী নজরুল ইসলামসহ দেশবরেণ্য আরও অনেকে।

১৯৭৪ সালে মকছেদ আলীকে রাষ্ট্রপতি পদকে ভূষিত করা হয়। ২০০০ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন মকছেদ আলী। এরপর ২০০৭ মৃত্যুবরণ করেন মকছেদ আলী।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »