ছবি হাতে নিয়ে বাবা হত্যার বিচার চাইলেন প্রতিবন্ধী মেয়ে

কুমিল্লার লাকসামে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান অটোরিকশা চালক নিরীহ বাবা ছানা উল্লাহ। বাবার মৃত্যুর পর তার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে প্রতিবন্ধী মেয়ে। সেই ছবি ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে ওই প্রতিবন্ধী তার বাবা হত্যার বিচার চাইলেন। বিচার কার্য ত্বরান্বিত করতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার জরুরি হলেও দুই মাসেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত আসামিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

জানা যায়, উপজেলার চরবাড়িয়া গ্রামের হালিয়াপাড়ার শফি উল্লাহর ছেলে অটোরিকশা চালক ছানা উল্লাহ গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) উপজেলার জুমার নামাজ আদায় করতে স্থানীয় একটি মসজিদে যান। এসময় ওই এলাকার জামশেদের ছেলে মসজিদের ভিতরে হাসাহাসি ও দুষ্টমি করলে সানা উল্লাহ তাকে তা করতে নিষেধ করেন। নামাজ শেষে বিষয়টিকে ঘিরে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় সিরাজুল ইসলামের দোকানে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক চলাকালে জামশেদ ও তার অনুসারীরা ছানা উল্লাহকে মারধরের একপর্যায়ে শরীরে ছুরিকাঘাত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ছানা উল্লাহর ছেলে ফয়সাল আহমেদ বাদী হয়ে ফরিদ আহম্মদের ছেলে জামশেদ আলম, আতাউল গনি মজুমদার সুজন (এ.এস.আই), আবুল মেম্বার সহ ৯ জনকে আসামী করে লাকসাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ৬৭ দিনেও মামলায় অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হতাশ। গত কয়েকদিন পূর্বে মামলাটি কুমিল্লা সিআইডির নিকট হস্তান্তর করায় মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়ে আশার আলো দেখছেন মামলার বাদী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

 

নিহত ছানা উল্লাহর একমাত্র ছেলে ফয়সাল আহমেদ জানান, বাবার মৃত্যুর কথা স্মরণ করে সবসময় মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রতিবন্ধী ছোট বোন প্রতিনিয়ত বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে কান্না-কাটি করে। আমার বাবাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যাদের নির্মমতায় বাবাকে হারাতে হয়েছে তাদের ফাঁসি চাই। আর তাদের ফাঁসি হলে আমার মতো হয়তো অন্য কাউকে তাদের বাবাকে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হতে হবে না।

তিনি আরো জানান, এ হত্যাকান্ডটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। মূল হত্যাকারি জামশেদ, এ.এস.আই সুজন, আবুল মেম্বারসহ তাদের সঙ্গীয়রা আমার বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ঘাতক খুনিদের ফাঁসি চেয়ে গত কয়েকদিন পূর্বে এলাকায় পোষ্টার ও লিফলেট প্রচার প্রচারণা চালাতে গেলে ঘাতকদের স্বজনরা বাধাগ্রস্ত করেন। এমনকি আমাদের পোষ্টার ছিড়ে ফেলে দিয়ে মামলাটি তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহনীতায় ভূগছি।

কুমিল্লার সিআইডি ইন্সপেক্টর আবুল কাশেম বলেন, মামলাটির দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এজহারভুক্ত আসামি ছাড়াও এ হত্যাকান্ডে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। মামলার অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

Rupantor Television

A IP Television Channel

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »